উদ্যোক্তা হতে চাইলে অবশ্যই নিজের ইচ্ছাশক্তি আর ধৈর্য প্রয়োজন – উদ্যোক্তা জান্নাতুল ফেরদৌস মীম।

“উদ্যোক্তা হতে চাইলে অবশ্যই নিজের ইচ্ছাশক্তি আর ধৈর্য প্রয়োজন” – উদ্যোক্তা জান্নাতুল ফেরদৌস মীম।।  

BD NEWS প্রতিবেদন-
বাংলাদেশের প্রথম প্রধান বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম, খ্যাতনামা পরমাণু বিজ্ঞানী এম এ ওয়াজেদ মিয়া, বাংলার মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া সহ আরও অসংখ্য খ্যাতনামা ব্যক্তির তীর্থ ভূমি বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল জেলা রংপুর। প্রখ্যাত এই জেলার তরুণ উদ্যোক্তা জান্নাতুল ফেরদৌস মীম।।  

রংপুর সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং রংপুর সরকারী কলেজে থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করে বর্তমানে রংপুর কারমাইকেল কলেজে  মার্কেটিং বিভাগে স্নাতক শেষ বর্ষে অধ্যায়নরত রয়েছেন এই মেধাবী তরুণ উদ্যোক্তা।। 
পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ের উপর লেখালিখি করেন। স্কুল পর্যায়ে গার্লস গাইড, আন্তঃস্কুল ক্রিকেট টুর্নামেন্ট সহ বিভিন্ন খেলাধুলায় যুক্ত ছিলেন। এছাড়াও শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সংগঠন “কাকাশিস”, সেচ্ছাসেবী সংগঠন “মৃত্তিকা”, বাঁধন সহ বেশ কিছু সংগঠনের সাথেও যুক্ত রয়েছেন মীম।।      

ছোটবেলা থেকেই দুরন্ত প্রকৃতির আর স্বাধীনচেতা মীম সব সময় চাইতেন নিজের মতো করে কাজ করতে। রং, তুলি, সুতা, পুঁথি আর ফেলে দেয়া জিনিস গুলোতে নতুন কোনো রুপ দেয়ার মাঝে এক প্রকার শান্তি খুঁজে পেতেন। স্বাধীন ভাবে কাজ করতে আর নিজস্ব উদ্যোগে স্বাবলম্বী হতেই যাত্রা শুরু করে মীমের অনলাইন ভিত্তিক ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান “মীম’স এক্সক্লুসিভ ওয়্যারহাউস”।।
নিজের নামেই নামকরণ করেন তার এই স্বপ্নের প্রতিষ্ঠানের। এ প্রসঙ্গে মীম জানান, ছোটবেলা থেকেই ‘আমার দ্বারা কিচ্ছু হবে না’ এই কথাটা পরিচিত জনদের কাছ থেকে এত্ত পরিমাণ শুনেছি যে, তখনই ঠিক করেছিলাম কখনো সুযোগ হলে, কিছু করতে পারলে নিজের নামেই নামকরণ করবো যাতে একটু হলেও সবাই আমাকে নিজের পরিচয়ে চিনতে পারে।।
 
“মীম’স এক্সক্লুসিভ ওয়্যারহাউস” এর অগ্রযাত্রা নিয়ে মীম জানান, ক্যারিয়ারের শুরুটা ছিলো আমার মাধ্যমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিকে ব্যবসায় শাখায় স্থানান্তরের পর থেকেই। সেই সময় নিজের হাতে কিছু জিনিস বানানো শুরু করি আর অল্প সময়ে জিনিস গুলো পরিবার আর বন্ধু মহলে বেশ সুনাম পেতে থাকে সেই সাথে নিজের ইনকামেরও শুরু। তখন আমার বড় ভাইয়া আমাকে বলে আমার দক্ষতাটাকে উদ্যোগ হিসেবে নিতে। আর তারপর থেকেই আমার নিজে কিছু করার পথ চলা শুরু। শুরুটা আসলে কষ্টকর ছিলো, ভালো ফোন ছিলো না তাই অফলাইনে টুকটাক পরিচিতদের কাছেই সেল করতে শুরু করি।
উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা চলে আসায় সাময়িক সময়ের জন্য কাজে শিথিলতা চলে আসে। কিন্তু ক্রাফটিং এর নেশা যখন রক্তে থাকে তখন হয়তো কোনো ভাবে দমিয়ে রাখা যায় না ৷ উচ্চ মাধ্যমিকের প্রথম বৃত্তির আট হাজার টাকা দিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে যাত্রা শুরু করি। শুরুতে সুতার কাজের আর হ্যান্ড পেইন্টিং এর জামা তৈরি করি, যা সকলের কাছে প্রশংসনীয় হলেও কারো কারো কাছে হাসির পাত্রও হয়েছিলাম। সে সময় অনেকে কাপড়ওয়ালী বলেও ডাকতো।    
নিজের জন্য বানানো জুয়েলারি দেখে অনেক পরিচিত জনরাও বানিয়ে দিতে বলেছিল, তারপর থেকে জুয়েলারি আইটেমও বানানো শুরু করি। বর্তমানে হ্যান্ডপেইন্ট, সুতার কাজ, ব্লক, এমব্রয়ডারির ড্রেস, ক্রুশের বিভিন্ন আইটেম সহ হাতে বানানো বিভিন্ন ধরণের পণ্য রয়েছে “মিম’স এক্সক্লুসিভ ওয়্যারহাউস”এ। কিছু প্রোডাক্ট থাকে যেটা সকলের কাছে একটু বেশি প্রাধান্য পায় যেমন আমাদের হ্যান্ডলুম ব্লক ড্রেস গুলো। প্রোডাক্ট পেয়ে সন্তুষ্ট হওয়ায় গ্রাহকদের কাছ থেকেও  অনেক প্রশংসা আর ভালোবাসা পাচ্ছি৷।  

উত্তরবঙ্গে থাকায় আমার জন্য প্রয়োজনীয় ম্যাটারিয়ালস সহজলভ্য ছিল না। এমনো দিন গেছে সারাদিন পণ্যের মেটারিয়ালস কালেক্ট করতে পায়ে হেটে বেড়িয়েছি। একটাই জেদ ছিলো কিছু একটা করতে হবে। চাকরী ছাড়াও সমাজে  নিজেকে প্রতিষ্ঠিত হওয়া সম্ভব। ভাইয়াকে সব সময় আমার প্রয়োজনে পাশে পেয়েছি। ভাইয়া ঢাকায় থাকার সুবাধে খুঁজে খুঁজে মেটারিয়ালস কালেক্ট করে আমাকে পাঠাতো। ভাইয়া না থাকলে হয়তো এতটা স্বপ্ন দেখা আর সেটার বাস্তবায়ন করা সম্ভবপর হতো না। আস্তে আস্তে সাহস বেড়ে যায়, বেশী বেশী প্রোডাক্ট কেনা শুরু করি। সবার সহযোগিতা আর ভালোবাসায় কাজের গন্ডি বাড়তে থাকে। বর্তমানে বাসায় ছোট্ট বুটিক্স আছে এছাড়াও বিভিন্ন মেলাতেও অংশগ্রহণ করছি।।  

বর্তমানে আমার কাজ বেশ ভালো চলছে। কাজের অর্ডার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।  যেহেতু পড়াশোনা সামলিয়ে বিজনেসের সব দিক নিজেকেই মেইনটেইন করতে হয় তাই একটু কষ্ট হয় কিন্তু কখনো কাজের প্রতি বিরক্ত আসে না বলেই হয়তো আজও হাল ছেড়ে দেইনি ৷ অনুপ্রেরনা পাই যখন গ্রাহকের হাসিমুখ আর আমার কাজের প্রতি তাদের কৃতজ্ঞতা দেখি। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা পেয়ে আসছি যা আমার আত্মপ্রত্যয় বাড়িয়ে তুলছে।।
যেহেতু মার্কেটিং নিয়ে পড়ছি তাই ইচ্ছে আছে ভবিষ্যতে বিজনেস রিলেটেড কাউন্সিলিং, ট্রেনিং এবং অন্যান্য যেসব সুযোগ সুবিধা প্রয়োজন একজন উদ্যোক্তার সেসব ক্ষেত্র নিয়ে কাজ করার। আমি যেসব সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি সেসব সমস্যা যেনো নতুন উদ্যোক্তাদের ফেস করতে না হয়।।

আমার ব্যবসায়ীক জীবনের পথচলা মাত্র শুরু সামনে অনেক কিছু করার পরিকল্পনা আছে। আমার কাজে সব সময় আমার বড় ভাইয়া, খুব কাছের কিছু বন্ধু মবিন, রিয়াদ, জুনায়েদ, কায়সার, অভি সহ অনেকেই ভেংগে পড়া সময় গুলোতে সাহস দিয়েছে, এখনো উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছে। আমার মাও আমার কাজ করার শক্তি আমার অনুপ্রেরণা। সকলের প্রতিই আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।।     

ভবিষ্যৎ নবীন উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে মীম বলেন, উদ্যোক্তা হতে চাইলে অবশ্যই নিজের ইচ্ছাশক্তি আর ধৈর্য প্রয়োজন। নিজের কাজের প্রতি সৎ থাকুন। প্রোডাক্ট মানসম্মত ভাবে তৈরি করুন। প্রোডাক্টের মার্কেট রিসার্চ করে সেই অনুযায়ী কাস্টমারদের কাছে প্রোডাক্ট তুলে ধরুন । নিজেকে জানতে শিখুন, জানুন কোন কাজে আপনার দক্ষতা আর ভালোবাসা আছে, তারপর সেই কাজে নেমে পড়ুন দেখবেন সফলতা আসবেই।।

বর্তমানে অনলাইনের মাধ্যমে ব্যবসায়ীক কার্যক্রম পরিচালনা করলেও ভবিষ্যতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শোরুম দেওয়া এবং “মীম’স এক্সক্লুসিভ ওয়্যারহাউস”কে দেশীয় পণ্যের বাজারে প্রতিষ্ঠিত করার প্রবল ইচ্ছা প্রকাশ করেন এই স্বপ্নবান মেধাবী তরুণ উদ্যোক্তা।।   
স্বপ্নবান মেধাবী এই তরুণ উদ্যোক্তার স্বপ্ন সফল হোক। পরিশ্রম সার্থক হোক। ইচ্ছে গুলো পূর্ণতা পাক। সকল প্রচেষ্টা বাস্তবায়ন হোক। আরও বহুদূর এগিয়ে যাক মীম।।      

আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ জান্নাতুল ফেরদৌস মীম। শুভকামনা।।                              
 
(ব্যবসায়িক প্রয়োজনে আগ্রহীরা উদ্যোক্তা জান্নাতুল ফেরদৌস মীম’র সাথে যোগাযোগ করতে পারেনঃ +৮৮০১৭৫০০৫৩৯৫০

উদ্যোক্তা জান্নাতুল ফেরদৌস মীম


“মীম’স এক্সক্লুসিভ ওয়্যারহাউস” পেইজ লিঙ্ক – https://www.facebook.com/rmm345/

“আপনার মনকে অবহিত করুন যে সফলতা না আসা পর্যন্ত আপনি থামছেন না, এমনকি আপনি বারবার ব্যর্থ হলেও থামছেন না। ছোটবেলায় যেভাবে একবার হাঁটতে না পারলেও  পড়ে গিয়ে কান্না করতে করতে আবার দেয়াল ধরে হাঁটতে চেষ্টা করতেন, এখন আবার দাঁতে দাঁত চেপে নাছোড়বান্দার মত লেগে থাকুন। সফলতা আসবে, সফলতা আসতেই হবে।”

– Zahidul Alam Rubel
প্রতিষ্ঠাতা
ক্লিকসেবা প্ল্যাটফর্ম